পাঁচ বছরে এক হাজার শিক্ষার্থীকে বেকারমুক্ত করার লক্ষ্য যুব শিক্ষা ফাউন্ডেশনের
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থান উপযোগী করতে কাজ করে যাচ্ছে যুব শিক্ষা ফাউন্ডেশন। বিশেষ করে গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সংগঠনটি। প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বাস্তব জীবনে কাজ করার সক্ষমতা অর্জনই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। সেই চিন্তা থেকেই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।
যুব শিক্ষা ফাউন্ডেশনের নেতারা জানান, বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী দারিদ্র্যের কারণে মাঝপথে ঝরে পড়ে। আবার অনেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করেও চাকরির বাজারে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে না। এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠনটি।
ফাউন্ডেশনটির পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—
তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ
কারিগরি ও হাতে-কলমে শিক্ষা
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রম
ইংরেজি ও যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়ন
বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান
সংগঠনটির দাবি, বর্তমান সময়ে শুধু একাডেমিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তরুণ সমাজ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
যুব শিক্ষা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দিন মোঃ রাজিব বলেন,
“আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যারা শুধু চাকরির জন্য অপেক্ষা করবে না; বরং নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। আমাদের লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অন্তত এক হাজার শিক্ষার্থীকে বেকারমুক্ত করা।”
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মধ্যেও রয়েছে অসীম সম্ভাবনা। প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগ। সেই সুযোগ তৈরি করতেই নিরলসভাবে কাজ করছে যুব শিক্ষা ফাউন্ডেশন।
সামাজিক সচেতন মহল মনে করছে, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর এ ধরনের উদ্যোগ দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ আগামী দিনে আরও শক্তিশালী অর্থনীতির দেশে পরিণত হতে পারবে। আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তরুণদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



