২০০৭ সালে বার্সেলোনায় একটি চ্যারিটি ফটোশুটে মাত্র পাঁচ মাস বয়সী এক শিশুকে কোলে নিয়ে গোসল করিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। তখন কেউ কল্পনাও করেনি, সেই শিশুই একদিন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হয়ে মেসির প্রতিপক্ষ হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে দাঁড়াবেন। প্রায় দেড় যুগ পর সেই শিশুই স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল, আর তাদের সেই ঐতিহাসিক ছবিকে ঘিরেই এখন বিশ্ব ফুটবলে তুমুল আলোচনা।
আগামী রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এটি হবে লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামালের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ। ৩৯ বছর বয়সী মেসির জন্য এটি হতে পারে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ, যেখানে তিনি আর্জেন্টিনার জার্সিতে চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। অন্যদিকে, মাত্র ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল স্পেনকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতানোর লক্ষ্যে মাঠে নামবেন।
মেসি ও ইয়ামালের সেই শৈশবের ছবিগুলো ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে আবারও আলোচনায় আসে। ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলো প্রকাশ করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ছবিগুলো তুলেছিলেন ফটোগ্রাফার হোয়ান মনফোর্ত। পরে তিনি জানান, বার্সেলোনা, ইউনিসেফ ও স্থানীয় সংবাদপত্র দিয়ারিও স্পোর্ত-এর যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত একটি চ্যারিটি ক্যালেন্ডারের জন্যই ওই ফটোশুটের আয়োজন করা হয়েছিল।
শুক্রবার নিউইয়র্কে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পুরোনো সেই স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মেসি। তিনি বলেন,
“সত্যি বলতে, ওই ছবিটা অবিশ্বাস্য। জীবন কত অদ্ভুত! সে তখন শিশু ছিল, আমি তার সঙ্গে ছবি তুলেছিলাম। আর আজ আমরা দুজন বিশ্বকাপের ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি।”
বর্তমানে বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন ইয়ামাল। নিজের সাবেক ক্লাবের এই তরুণ তারকার প্রতি আলাদা নজর রয়েছে মেসির। ইয়ামালের প্রশংসা করে তিনি বলেন,
“লামিন অসাধারণ প্রতিভাবান। সে এমন একটি ক্লাবে খেলে, যেটিকে আমি ভালোবাসি। আমি সব সময় তার জন্য সেরাটাই কামনা করি।”
তবে প্রশংসার পাশাপাশি মাঠে কোনো ছাড় দিতে রাজি নন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর ইয়ামালকে থামাতে নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার কথাও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন তিনি।
“সে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তার সামনে অনেক বড় ক্যারিয়ার পড়ে আছে। এবার তার সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ এসেছে। কিন্তু সেটা যাতে এবার না হয়, তা নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
মেসি আরও বলেন,
“আমি তাকে শুভকামনা জানাই। কারণ তার ভালো মানেই বার্সেলোনার ভালো। সে এখন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন।”
বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসি ও ইয়ামালের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনাটি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, ২০০৭ সালের সেই ছবির দুই চরিত্র একদিন বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রতিপক্ষ হবেন—এমন সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটিতে এক ভাগ। আর সেই অবিশ্বাস্য ঘটনাই এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।
এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের অপেক্ষা—ইতিহাস গড়বেন অভিজ্ঞ কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, নাকি নতুন প্রজন্মের প্রতীক লামিন ইয়ামাল?






