স্টাফ রিপোর্টার সিলেট
সিলেট: দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি না থাকায় সিলেট জেলা বিএনপিতে নেতৃত্ব সংকট ও স্থবিরতা নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য দায়িত্বশীল নেতাদের অনেকেই কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন না। নিয়মিত সভা-সমাবেশ, সাংগঠনিক বৈঠক কিংবা তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগের অভাবে জেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত হতাশা বিরাজ করছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি বর্তমানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনিক দায়িত্ব, নাগরিক সেবা ও দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে দলীয় কার্যক্রমে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না বলে নেতাকর্মীদের অভিযোগ। অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদীয় কার্যক্রম, নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক নানা দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমেও সময়ের সংকট দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমে এসেছে বলে দাবি করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাঁদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে জেলা কমিটির কোনো উল্লেখযোগ্য সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির বাস্তবায়ন, উপজেলা, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং কমিটি পুনর্গঠনের কাজও কার্যত থমকে রয়েছে। এক সময়ের সক্রিয় জেলা কার্যালয়েও এখন আগের মতো নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ও রাজনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায় না।
ত্যাগী ও দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার অভাবে তারা এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের মতে, সংগঠনকে শক্তিশালী রাখতে নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম, কর্মীসভা এবং নেতৃত্বের সক্রিয় উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, শীর্ষ নেতৃত্ব নতুন দায়িত্বে সফল হোক—এটাই সবার প্রত্যাশা। তবে সেই ব্যস্ততার কারণে জেলা বিএনপির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিট দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকলে দলীয় কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শীর্ষ নেতারা যদি পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারেন, তাহলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উচিত দ্রুত প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।
সাধারণ নেতাকর্মী ও দলের জ্যেষ্ঠদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন কমিটি পুনর্গঠন না হওয়ায় সাংগঠনিক দুর্বলতা তৈরি হচ্ছে। তাঁরা মনে করেন, সাংগঠনিক ও সরকারি দায়িত্বের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়মিত কমিটি গঠন, দায়িত্ব বণ্টন এবং ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তৃণমূলের প্রত্যাশা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।






