ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট । মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগন ইতোমধ্যে ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রেসিডেন্টের হাতে রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা চলমান সংঘাতকে ‘যুদ্ধের নতুন পর্যায়ে’ নিয়ে যেতে পারে। তবে এটি পূর্ণমাত্রার আক্রমণ হবে না; বরং এতে বিশেষ অভিযান বাহিনী এবং সাধারণ পদাতিক সেনাদের সীমিত পরিসরের অভিযান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ইতোমধ্যে ৪ হাজারের বেশি মার্কিন মেরিন সেনা জাহাজে করে উপসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পাশাপাশি ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপারদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন নিয়েও আলোচনা চলছে।
সম্ভাব্য অভিযানের লক্ষ্য হিসেবে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ এবং আশপাশের উপকূলীয় এলাকাকে বিবেচনা করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই ধরনের অভিযান মাসব্যাপী নয়, বরং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, পেন্টাগনের কাজ হচ্ছে সর্বোচ্চ নমনীয়তা নিশ্চিত করা। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল–মার্কিন যৌথ অভিযানের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০-এর বেশি আহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরান-এ হামলায় ১,৩০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
একই সময়ে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে ইসরায়িল এবং উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে আঘাত হানছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।



