গ্রীষ্মকাল এলেই বাড়ে বিদ্যুতের ব্যবহার, আর তার সঙ্গে বাড়তে থাকে মাসিক বিলের চাপ। বিশেষ করে ইন্ডাকশন চুলা ও এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বেশি ব্যবহারের কারণে খরচ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তবে কিছু সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে সহজেই এই অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ইন্ডাকশন চুলা ব্যবহারে সতর্কতা
ইন্ডাকশন চুলা দ্রুত রান্নার সুবিধা দিলেও সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে বিদ্যুতের অপচয় হয়। রান্নার সময় সবসময় ম্যাগনেটিক বেসযুক্ত উপযুক্ত হাঁড়ি ব্যবহার করা উচিত। পাতলা বা অনুপযুক্ত পাত্রে শক্তি বেশি খরচ হয়। প্রয়োজন ছাড়া চুলা প্রি-হিট না করাই ভালো। এছাড়া অতিরিক্ত তাপমাত্রা এড়িয়ে মাঝারি তাপে রান্না করলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।
এসি ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ান
গরমে আরাম পেতে এসির বিকল্প না থাকলেও এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। সাধারণত ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ঘর ঠান্ডা রাখার জন্য যথেষ্ট। এর চেয়ে কম তাপমাত্রা নির্ধারণ করলে বিদ্যুতের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। নিয়মিত এসির ফিল্টার পরিষ্কার রাখা উচিত, কারণ ধুলাবালি জমলে যন্ত্র বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। পাশাপাশি ফ্যানের সঙ্গে এসি ব্যবহার করলে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়, ফলে এসি কম সময় চালালেই চলে।
দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এলইডি লাইট বা সোলার ফ্যান ব্যবহার করা যেতে পারে। অপ্রয়োজনে কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু রাখা ঠিক নয়। ঘর থেকে বের হওয়ার আগে সব ডিভাইস বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। এছাড়া স্মার্ট কন্ট্রোল বা টাইমারযুক্ত ডিভাইস ব্যবহার করলে নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সহায়তা করে।
পরিকল্পিত ব্যবহারে কমবে বিল
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মূল চাবিকাঠি হলো সচেতনতা ও পরিকল্পনা। রান্না, শীতলীকরণ এবং আলোকসজ্জায় ছোট ছোট পরিবর্তন আনলেই মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলের অঙ্ক অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।



