পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি—এই অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “আমরা পরাজিত হইনি, তাই পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না।”
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছেন। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সংবিধান কী বলছে?
ভারতের সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী গভর্নরের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং তার পদে থাকা নির্ভর করে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের ওপর। ফলে কোনো মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করলেও, সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে তার অবস্থান টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
সামনে কী হতে পারে?
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি সাংবিধানিক ধাপ সামনে আসতে পারে—
আস্থা ভোট:
গভর্নর চাইলে মুখ্যমন্ত্রীকে বিধানসভায় আস্থা ভোটে অংশ নিতে বলতে পারেন। সেখানে প্রমাণ করতে হবে তার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে কিনা।
গভর্নরের ভূমিকা:
যদি সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়, তবে গভর্নর মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলতে পারেন এবং বিকল্প নেতৃত্বকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।
নতুন সরকার গঠন:
বিরোধী দল বা জোট যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, তবে তাদের হাতে সরকার গঠনের সুযোগ যাবে।
রাষ্ট্রপতি শাসন:
কোনো পক্ষই সরকার গঠন করতে না পারলে সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে।
মেয়াদ সংক্রান্ত বিধান
সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একটি বিধানসভার মেয়াদ পাঁচ বছর। এই সময়ের মধ্যে কার্যকর সরকার গঠন করা বাধ্যতামূলক; অন্যথায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।





