মায়ের ভালোবাসা ও ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা
মা—এই ছোট্ট শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর মমতা, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর অসীম ত্যাগের গল্প। সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের সব কষ্ট নীরবে সহ্য করা মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতেই আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মা দিবস।
প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্ব মা দিবস পালন করা হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি উপলক্ষে নানা আয়োজন করা হয়েছে। কেউ মাকে ফুল উপহার দিচ্ছেন, কেউ বিশেষ উপহার কিংবা প্রিয় খাবার দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করছেন। আবার অনেকেই ব্যস্ততার মাঝেও মায়ের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়ে দিনটিকে স্মরণীয় করে তুলছেন।
মা দিবস শুধু আনুষ্ঠানিক কোনো উদযাপন নয়, এটি মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর একটি বিশেষ উপলক্ষ। কারণ একজন মা সন্তানের সুখের জন্য নির্ঘুম রাত কাটান, নিজের ইচ্ছা-স্বপ্ন বিসর্জন দেন, তবুও বিনিময়ে কিছুই প্রত্যাশা করেন না। সন্তানের ভালো থাকাই একজন মায়ের সবচেয়ে বড় আনন্দ।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, আধুনিক মা দিবসের সূচনা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯০৭ সালে আনা জারভিস নামের এক নারী তার মায়ের স্মরণে প্রথম মা দিবস পালনের উদ্যোগ নেন। পরে ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মাদার্স ডে’ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশেও দিনটি ঘিরে বাড়ছে আয়োজন ও সচেতনতা। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনেক দোকান ও ব্র্যান্ড মা দিবস উপলক্ষে বিশেষ ছাড় ও উপহারের ব্যবস্থা করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মায়ের প্রতি ভালোবাসা শুধু একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। প্রতিদিনের আচরণ, সম্মান ও যত্নের মধ্য দিয়েই মায়ের প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা প্রকাশ পায়। কারণ পৃথিবীর সব সম্পর্ক বদলে গেলেও ‘মা’ শব্দটি আজও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রতীক।
ডেইলি বার্তাএক্স পরিবারের পক্ষ থেকেও বিশ্বের সব মায়ের প্রতি জানানো হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।



