খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় বুড়িভদ্রা নদী খনন প্রকল্পের মাটি ফেলার কারণে দুটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে উপজেলার চুকনগর বাজারসংলগ্ন গরুর হাটের খোলা মাঠে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, সরকারের দেওয়া দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমি-পাকা ঘর এবং জমির মালিকানাই ছিল তাদের জীবনের একমাত্র সম্বল। নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও দীর্ঘদিনের ঠিকানাহীন জীবনের অবসান ঘটিয়ে যে আশ্রয় তারা পেয়েছিলেন, নদী খনন প্রকল্পের কারণে সেই শেষ আশ্রয়ও এখন হুমকির মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার চুকনগর ও কাঁঠালতলা এলাকার বরাতিয়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পসংলগ্ন বুড়িভদ্রা নদী খননের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই সংকট দেখা দেয়। খননকৃত বিপুল পরিমাণ মাটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের পাশে ফেলার ফলে অনেক ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের একটি অংশ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘর ছেড়ে চুকনগর বাজারের পাশের গরুর হাটে অস্থায়ীভাবে অবস্থান নিয়েছে। খোলা আকাশের নিচে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়।
এ বিষয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী বলেন, বুড়িভদ্রা নদী খনন প্রকল্পের প্রায় ৫৭ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, খননের মাটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের পাশে রাখার কারণে মানুষের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং কিছু ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার জানান, ২০২১ সালে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ডুমুরিয়ার চুকনগর, বরাতিয়া ও খর্নিয়া এলাকায় তিন ধাপে শতাধিক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। তাদের জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমি-পাকা ঘর নির্মাণ করে সরকার।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত পুনর্বাসন এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি



