ভারত মহাসাগরে চীন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক উপস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের সাবমেরিন সক্ষমতা আরও জোরদার করছে ভারতীয় নৌবাহিনী। দেশটির নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে. ত্রিপাঠী শনিবার ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের নৌবাহিনীর কার্যক্রম এবং পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতা ভারতের জন্য নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নৌপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় নৌবাহিনী সাবমেরিন-বিরোধী যুদ্ধ সক্ষমতা (অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার), সমুদ্রের নিচে নজরদারি ব্যবস্থা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করছে।
অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী বলেন, ভারতের লক্ষ্য কোনো দেশকে কেন্দ্র করে সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া নয়; বরং দেশের সামুদ্রিক স্বার্থ, বাণিজ্যিক রুট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি দাবি করেন, যেকোনো ধরনের দ্বিমুখী সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতীয় নৌবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য চীনের তৈরি আধুনিক সাবমেরিন যুক্ত হওয়ায় এ অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ভারতীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাকে সামনে রেখে বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি, মোতায়েন কৌশল এবং সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তোলা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত মহাসাগরকে ঘিরে ভারত, চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে বাড়তে থাকা কৌশলগত প্রতিযোগিতা আগামী দিনগুলোতে দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।



