গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সোচ্চার থাকতে হবে।
সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ধর্মমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “তারেক রহমান প্রথমবার এমপি হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি অনেক ভালো কাজ করছেন। কিন্তু অনেকেই তা সহ্য করতে পারছেন না। এজন্য সাংবাদিকদের চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। যারা গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করতে চায়, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
মন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান সরকার অল্প সময়ের মধ্যেই কৃষক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড, দরিদ্র নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের মতো পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পর কোনো সরকার এত কম সময়ে এত কাজ করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে কায়কোবাদ বলেন, “সাধারণত বিরোধী দল সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরে। কিন্তু এখন তারা সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টাতেই বেশি মনোযোগী।”
সাংবাদিকতায় নারীদের অংশগ্রহণ কম উল্লেখ করে নারী সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন ধর্মমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানান এবং মাদক সম্রাটদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানি বা জুলুমের শিকার না হন, সেদিকেও খেয়াল রাখার অনুরোধ করেন তিনি।
সরকারকে কারা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার চেষ্টা করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “যারা সরকারের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি, তারা সবাই।”
ভারতের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “ভারত বিশাল দেশ। তারা গণতন্ত্রকে লালন করে বলে আমি তাদের শ্রদ্ধা করি। তবে সংখ্যালঘুদের আরও বেশি নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করলে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা আরও বাড়বে।” তিনি আরও বলেন, “ভারতে যা ঘটছে, তা বাংলাদেশে ঘটতে দেওয়া হবে না। এখানে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন সহ্য করা হবে না।”
তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষের আলাদাভাবে ইজতেমা আয়োজন প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “দুই পক্ষ যদি একসঙ্গে চলে, তাহলে আমি খুশি হব। আগের মতো ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে ফিরে গেলে ভালো হবে। তবে সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ



