সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক নজরদারি উড়োজাহাজ ‘ই–৩ সেন্ট্রি’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল–জাজিরা আহতের সংখ্যা ১৫ জন বলে জানিয়েছে।
‘ই–৩ সেন্ট্রি’ মূলত এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (আওয়াকস) হিসেবে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উড়োজাহাজ। এটি শত শত মাইল দূর থেকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও শত্রু যুদ্ধবিমান শনাক্ত করতে পারে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় ধাক্কা।
একই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুটি ‘কেসি–১৩৫’ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব উড়োজাহাজ মাঝ আকাশে যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানে জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহৃত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি আকাশ অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। এর আগে গত ১৩ মার্চ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, একই ঘাঁটিতে আগের এক হামলায় মার্কিন বাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যদিও সেগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি।
এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরাকের আকাশসীমায় একটি কেসি–১৩৫ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে এর ছয়জন ক্রু নিহত হয়েছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, এটি শত্রু বা মিত্রপক্ষের হামলায় হয়নি। তবে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’ নামের একটি গোষ্ঠী উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করার দাবি করেছে।
ন্যাটোর তথ্য অনুযায়ী, ‘আওয়াকস’ উড়োজাহাজগুলো আকাশে ‘আইজ ইন দ্য স্কাই’ হিসেবে কাজ করে। এগুলো দূরপাল্লার রাডার ও উন্নত সেন্সরের মাধ্যমে শত্রু গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, শনাক্তকরণ এবং মিত্রবাহিনীর মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান–প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।





