ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর রিমান্ড শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতে উঠে এসেছে ২০০৭ সালের ‘ওয়ান/ইলেভেন’ সময়কার নানা বিতর্কিত প্রসঙ্গ।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, ‘ওয়ান/ইলেভেন’ সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘ঝুলিয়ে-পিটিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে দেওয়ার’ ঘটনায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জড়িত ছিলেন।
তবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামি মাসুদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, তারেক রহমানকে নির্যাতনের ঘটনাতেও আসামির সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ অভিযোগও অস্বীকার করে মাসুদ উদ্দিন বলেন, এটি ভিত্তিহীন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির মিরপুর বিভাগের এসআই কফিল উদ্দিন মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় আসামিকে আদালতে হাজির করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, আসামি ‘১/১১’-এর একজন কুশীলব এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনে তাকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানিয়ে বলেন, আসামি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।
এ মামলায় ইতোমধ্যে দু’দফায় আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু তদন্তে কী পাওয়া গেছে তা উল্লেখ করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় জোরপূর্বক তাকে হাসপাতালে থেকে আদালতে আনা হয়েছে।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে অবসরপ্রাপ্ত এ লেফটেন্যান্ট জেনারেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।


