৪৫তম বিসিএসে বৈষম্যের অভিযোগ এনে রিপিট ক্যাডার সংশোধন, সম্পূরক ফলাফল প্রকাশ এবং নন-ক্যাডারে নতুন পদ যুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বৈষম্যের শিকার চাকরিপ্রার্থীরা।
রোববার (১৭ মে) আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রায় শতাধিক রিপিট ক্যাডার সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে একই ব্যক্তি একাধিকবার একই পদে সুপারিশ পেলেও প্রকৃত মেধাবী বেকার প্রার্থীরা চাকরিবঞ্চিত হচ্ছেন। তারা অভিযোগ করেন, ৪৪তম বিসিএসের ক্ষেত্রে একাধিকবার সম্পূরক ফলাফল প্রকাশ করা হলেও ৪৫তম বিসিএসের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
বক্তারা আরও বলেন, ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে নন-ক্যাডার পদের সংখ্যা ছিল ১০২২টি। তবে সুপারিশ করা হয়েছে মাত্র ৫৪৫টি পদে। বাকি ৪৫৭টি পদ প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা মেধাবী চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ। তারা দাবি করেন, নতুন পদ সংযোজনের পরিবর্তে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত পদ কমিয়ে দেওয়া নতুন বাংলাদেশের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ২০২২ সালে প্রকাশিত ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তির ফল প্রকাশ হতে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছে। এ সময়ের মধ্যে অনেক প্রার্থী উচ্চ গ্রেডের চাকরিতে যুক্ত হলেও তাদেরকে পুরোনো পছন্দক্রম অনুযায়ী তুলনামূলক নিম্ন গ্রেডের নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করা হয়েছে, যা অপ্রাসঙ্গিক ও অমানবিক।
তারা আরও উল্লেখ করেন, ৪৪তম বিসিএসে ৪১৩৬টি নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও ৪৫তম বিসিএসে মাত্র ৫৪৫টি পদে সুপারিশ করা হয়েছে, যা নজিরবিহীন বৈষম্য ও পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত।
মানববন্ধন থেকে চাকরিপ্রার্থীরা তিন দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো—
১. ৪৫তম বিসিএসের রিপিট ক্যাডার সংশোধন করে সম্পূরক ফলাফল প্রকাশ।
২. প্রত্যাহারকৃত ৪৫৭টি নন-ক্যাডার পদ পুনর্বহাল এবং নতুন পদ সংযোজনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিয়োগ নিশ্চিত করা।
৩. ৪৪তম বিসিএসের মতো পুনঃপছন্দক্রম গ্রহণ করে রিপিট নন-ক্যাডার সুপারিশ বাতিল এবং প্রকৃত বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে আয়োজকরা সাংবাদিকদের উপস্থিতি ও সংবাদ প্রচারের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
আয়োজনে ছিল “৪৫তম বিসিএস বৈষম্যের শিকার চাকরিপ্রার্থীবৃন্দ”।



