ভারত প্রথমবারের মতো শান্তিকালীন সময়ে ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করে নতুন কৌশলগত বার্তা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের মোট পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বর্তমানে প্রায় ১৯০ ওয়ারহেডে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১২টি ওয়ারহেড ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে প্রস্তুত অবস্থায় মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে প্রয়োজনে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা বাড়বে ভারতের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই সামরিক প্রস্তুতির প্রধান কারণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি ও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা নয়াদিল্লির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। একই সঙ্গে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতাও ভারতের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে ভারতের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির খবরে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ প্রতিবেশী দেশগুলোকেও নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে উৎসাহিত করতে পারে।
তবে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে এই মোতায়েনের কথা জানায়নি। দেশটির অবস্থান হলো, পারমাণবিক অস্ত্র কেবল প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তা কৌশলের অংশ এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের এই পদক্ষেপ মূলত চীন ও পাকিস্তানকে কেন্দ্র করেই নেওয়া হয়েছে, যদিও সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।



