12.9 C
London
Saturday, June 6, 2026
Home আন্তর্জাতিক ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলায় সৌদি-কাতারকে রাজি করাতে ব্যর্থ ইউএই: ব্লুমবার্গ

ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলায় সৌদি-কাতারকে রাজি করাতে ব্যর্থ ইউএই: ব্লুমবার্গ

22
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ

ইরানের হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর সমন্বিত সামরিক পদক্ষেপ চেয়েও সৌদি আরব ও কাতারকে রাজি করাতে পারেনি সংযুক্ত আরব আমিরাত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ-এর এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পরপরই ইউএই প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান-সহ উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন।

ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ২০২১ সালের ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা ইউএই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটিতে প্রায় তিন হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে।
তবে ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক অভিযানের আহ্বান সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় নেতারা প্রত্যাখ্যান করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা সৌদি আরব ও ইউএইর মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করেছে।
আলাদা পথে সৌদি আরব ও ইউএই
প্রতিবেদন বলছে, সৌদি আরব ও ইউএই উভয় দেশই ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালালেও তারা তা সমন্বিতভাবে নয়, বরং পৃথকভাবে করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত অবস্থান নেয় এবং দ্রুতই মিত্র পাকিস্তান-এর মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেয়।
অন্যদিকে ইউএই সরাসরি ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর তথ্যমতে, এপ্রিলের শুরুতে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের লাভান দ্বীপে হামলা চালায় ইউএই। এতে সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং কয়েক মাসের জন্য উৎপাদন ব্যাহত হয়।

হরমুজ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য বিকল্প ‘পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন’ থাকলেও ইউএই ইরানের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে বেশি রয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব দেশটির পর্যটন ও আর্থিক খাতের ওপরও পড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র যাতে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখে, সে জন্য আবুধাবি প্রকাশ্যে ও গোপনে তদবির চালিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মোকাবিলায় সামরিক পদক্ষেপের অনুমোদন চেয়ে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাবও দেয় ইউএই, যা শেষ পর্যন্ত পাস হয়নি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ

জিসিসির ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ
ইউএই প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ ইরানের হামলার মুখে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ-এর ‘দুর্বল’ ভূমিকার সমালোচনা করেন।
উপসাগরীয় মিত্রদের প্রতি অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চলতি মে মাসে ইউএই তেল রপ্তানিকারক জোট ওপেক থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ
উত্তেজনার মধ্যেই ইউএই ও ইসরায়েলের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি দাবি করেন, ইরানের হামলা থেকে সুরক্ষা দিতে ইসরায়েল ইউএইতে ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সেনা পাঠিয়েছে।
তবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে প্রকাশ্যে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আবুধাবি। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর ইউএই সফরের দাবি করা হলেও তা অস্বীকার করেছে আমিরাত সরকার।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে জাতিসংঘের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার সংগঠন এবং বিশ্ব নেতাদের অনেকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই অবস্থানের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি-এর নামও আলোচনায়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here